একটা যুগের সমাপ্তি।

আচ্ছা আমাকে যাঁরা চেনেন, তাঁরা সকলেই জানেন আমি কোনদিনই সেইভাবে ওঁনার অনুগামী, ওঁনার ঘনিষ্ঠ বৃত্ত কিংবা আপনাদের রাজনৈতিক ভাষায়, ওঁনার ‘লবি’র ছিলাম না! রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন অপ্রাসঙ্গিকভাবে কখনো স্তুতি গাইনি, কাজেই আজ গেয়েও খুব একটা লাভ নেই!
তবে একটা কথা খুব পরিষ্কার, সমালোচনা-প্রশংসা-নিন্দা-বন্দনা, বঙ্গ বিজেপিকে বঙ্গের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। উঁনি সেই ব্যক্তি যিনি টিভি চ্যানেলে কলকাতার বাবুদের মুখের উপর বলতেন হিন্দুকে হিন্দু থাকতে দিন, মুসলমানকে মুসলমান, খিচুড়ি করবেন না৷
উঁনি সেই ব্যক্তি যিনি মাসে ২৫ দিন করে জেলায় জেলায় ঘুরে সংগঠন টা দাঁড় করিয়েছিলেন, বাংলার বুকে ‘বিকল্প রাজনীতি’র একটা প্ল্যাটফর্ম যে বিজেপি হতে পারে, যে বিজেপি কেবল বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বাদে ছাত্র-কৃষক-দিনমজুরের স্বার্থেও লড়তে পারে, এই বিশ্বাসটা উঁনি মানুষের মনে তৈরি করতে পেরেছিলেন।
কী ছিল ওঁনার আগে বঙ্গ বিজেপি? দমদমে তপন শিকদার ভোট কাটাকাটি করে ডিসাইড করবে লোকসভায় তৃণমূল জিতবে না সিপিএম, উত্তর কলকাতা-বড়বাজারে ৪-৫ টা কাউন্সিলর, উত্তরবঙ্গে কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটব্যাংকের সুবাদে সামান্য সাংগঠনিক উপস্থিতি, এই তো?
উঁনি না থাকলে, ওঁনার মেঠো ভাষা না থাকলে, ওঁনার ওই স্বভাব-চালচলন না থাকলে আমাদের মধ্যে কতজন আজ ওই ২ কোটি ২৮ লক্ষের মধ্যে থাকতাম সন্দেহ!
কেউ নিজের স্বার্থ রক্ষায় দল করে, পালিয়ে যায় ; কেউ পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় দল করে, পালিয়ে যায় ; দিলীপ ঘোষ দল করেছেন আদর্শের স্বার্থে। কেন বলছি বলুন তো? তার জন্য আপনাকে স্বয়ংসেবক দিলীপ ঘোষকে জানতে হবে। এক সাংসদের স্ত্রী নিজের রাজনৈতিক ধান্দা নিয়ে দিলীপ ঘোষের সাথে দেখা করতে গেছিলেন, সল্টলেকের বৃন্দাবন শাখায়। রাজনৈতিক স্বার্থের কথা আলোচনা করতেই দিলীপ দা বলেন, এটা সঙ্ঘের শাখা, এখানে গেরুয়া ধ্বজের সামনে ধান্দার কথা আলোচনা হয় না। খবরদার আর কখনো এটা করবে না! বুঝতে পারলেন? নিজের চোখের সামনে ঘটনাটি দেখে দিলীপ ঘোষকে চিনতে পেরেছিলাম।
দেখুন, ঠিক ভুল তো হয়ই! এমন কোন রাজনেতা আছেন যাঁর ১০০% ঠিক? হয়তো কারও চোখে ওনার ভুল বেশি, কারও চোখে কম! এমন কোন রাজনেতা আছেন যিনি বিতর্কে জড়ান না?
কমেন্ট্রি করা সহজ, হর্ষ ভোগলেও শচীন টেন্ডুলকারের সমালোচনা করতেন, বলতেন এই শটটা এইভাবে খেলা উচিত ছিল, ওই শটটা ওইভাবে ; কিন্তু বাস্তবে ক্রিজে দাঁড়িয়ে খেলতেন কে? শচীন ই!
বিজেপিকে বাঙালির কাছে সহজবোধ্য, সহজলভ্য করেছেন যে ব্যক্তি, তাঁর নাম দিলীপ ঘোষ। আমি-আপনি মানি না মানি, সাফল্য কথা বলে।
শুনুন “Success has many fathers, failure is an orphan.”
একটা সময় মুরলীধর লেনটা অনেকেই চিনত না। এখন বাংলা রাজনীতির অন্যতম নির্ণায়ক স্থান ৬ নং মুরলীধর লেন! কারিগর দিলীপ ঘোষ।
সমালোচনা হোক, প্রশংসা হোক, দিলীপ ঘোষ নিজেকে বানাতে আসেন নি ; এসেছিলেন বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে, আজ তাই করে দিয়ে চলে গেলেন! দিলীপ ঘোষের প্রশংসা-নিন্দা-সমালোচনা হবে, হবে কারণ বঙ্গ রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তিটির নাম বিজেপি। হ্যাঁ এটাই দিলীপ ঘোষ, এতটুকুই দিলীপ ঘোষ।