পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ও অসহায়তা

শুরুটা হয়েছিল দিনের আলোয় পুলিশ অফিসার তাপস চৌধুরীর হত্যা দিয়ে।রক্তের স্বাদ হয়তো তখনই পাওয়ার শুরু।অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তৃনমুল নেতা মুন্না ইকবালের কঠোর শাস্তি তো হয়ইনি,উল্টে ব্যবস্থা নিতে চাওয়া তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকেই বদলি হয়ে যেতে হয়েছিল।মেসেজটা পরিস্কার ছিল।যত জঘন্য অপরাধই হোক না কেন,তৃনমুল জমানায় অপরাধী যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হয় তাহলে তাঁর সাত খুন মাফ।বাংলার পুলিশবাহিনীর মরালটা সেদিনই দুমড়েমুচড়ে গেছিলো।শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে একটা নির্বাচিত সরকার যে কতটা নিচে নামতে পারে,তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বর্তমানে বাংলায় চলা এই তৃনমূল সরকার।গার্ডেনরিচ হরিমোহন ঘোষ কলেজের সেই ঘটনা ঘটে যাবার পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে।পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনা কিন্তু থামেনি।বাংলার পুলিশকে কখনো টেবিলের তলায় আশ্রয় নিতে হয়েছে তো কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে মার খেতে হয়েছে।কখনো পুলিশের গাড়ীতে আগুন লাগানো হয়েছে তো কখনো থানাসমেত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।এবং লক্ষনীয় বিষয় এটাই যে, এইসব ঘটনাই সংগঠিত হয়েছে সেই বিশেষ সম্প্রদায়ের দ্বারা। গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজ-খিদিরপুর- একবালপুর-পার্কসার্কাস- রাজাবাজার-বেলগাছিয়া বস্তি,কলকাতার এইসব জায়গায় পুলিস ডিউটি করতে ভয় পায়।এরই মধ্যে আমরা কালিয়াচক-ধূলাগড়-বাদুড়িয়া- বসিরহাট-মুর্শিদাবাদ-ভাঙ্গর-আসানশোল-রানীগঞ্জ-উলুবেড়িয়াসহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় লুঙ্গিবাহিনীর তান্ডব দেখেছি।এইসব জায়গাতেই পুলিশ কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে।সিএএ নিয়েও আন্দোলনের নামে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচারে ভাঙ্গচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।সেখানেও পুলিশের গাড়ী – থানা জ্বলেছে।আপাততঃ শেষ নিদর্শন গতকালের হাওড়ার টিকিয়াপাড়া।পুলিশকে দৌঁড় করিয়ে করিয়ে মারা কাকে বলে,সেটা আবার লুঙ্গিবাহিনী দেখিয়ে দিলো।এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে,এঁদের এত সাহস আসে কোথা থেকে??শুধুই কি রাজ্য সরকার বা শাসকদলের বদান্যতা আছে বলে??আমার কিন্তু তা মনে হয় না।এঁদের ভোটটা যেহেতু এককাট্টা পরে,তাই এঁরা নিজেদেরকে সমাজের প্রিভিলেজড ক্লাস মনে করে।বিজেপি বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলই তাই এঁদের ঘাটাবে না, সেটা তাঁরা ভালোভাবেই জানে।তার সাথে আছে বাংলার কিছু কুখ্যাত ভন্ড,লোভী,মেরুদন্ড বিকিয়ে দেওয়া বুদ্ধিজীবী সমাজ,যারা সবার আগে তাঁদের হয়ে ঝাঁপিয়ে পরবে সেটাও তাঁরা জানে।তাই শত অন্যায় করে যাও,ধর্মনিরপেক্ষতা পার করেগা।
পরিশেষে বলি,কবি দেবেশ ঠাকুরের “ভারতবর্ষ” কবিতাটা ইদানীং বাজারে খুব চলছে।বিশেষ করে একটি বাচ্চা মিষ্টি মেয়ে সৃনিকার অসাধারণ বাচনভঙ্গিমা এই কবিতাটিকে আরো জনপ্রিয় করেছে।বাঙ্গালী সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর লাইক,কমেন্ট ও শেয়ারও করেছে।তো সেই কবির কথার রেশ ধরেই বলি,”মাঠটা তো বড়ই ছিল।সেটা ছোট করলো কারা??যারা অখন্ড মাঠের চিন্তা করে,তাঁরা??নাকি যারা মাঠের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম দিক ভাগ করে দিয়ে বড় মাঠটাকে ছোট করে দিলো, তাঁরা??” হাজার-হাজার বছর ধরে যারা বুক দিয়ে মাঠটাকে আগলে রেখেছে,মাঠের সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখেছে,কবি কি তাঁদের দোষারোপ করছেন??নাকি মাঠটাকে বড় করার নামে আমার এই পবিত্র মাঠের সংস্কৃতিকে যারা প্রতিদিন নষ্ট করে চলেছে,কবি তাঁদের হয়ে কথা বলছেন?? প্রশ্নটা রইলো
Sender: Anupam Ghosh, Salt Lake (Kolkata)