ফটো সেশন, অভিনয় বনাম নিঃশব্দ কর্তব্য পালন

সময় বড়ই নিষ্ঠুর। সে কিছুই জমা রাখে না। সবটাই ফেরত দেয়। মহাকালের দফতরে সবকিছুই হিসেবের খাতায় তোলা থাকে। মনে পড়ে মাননীয়া, সেদিন ক্ষমতার দর্পে মত্ত হয়ে আপনি ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন। আজ সেই সেনাবাহিনীর সহায়তা আপনাকে চাইতে হল। কেমন লাগছে মাননীয়া ? মনে পড়ে সেদিনের কথা? যেদিন এই সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে আপনার একটিবারের জন্যও বিবেক দংশন হয়নি।
আজকের এই বিষম পরিস্থিতিতে, একাধারে করোনা আর আমফান এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে যখন পশ্চিমবঙ্গ বিধস্ত তখন আপনার চূড়ান্ত ব্যর্থতা আপনার সদিচ্ছা, আপনার নেতৃত্বের উপর আঙ্গুল তুলে দিল। এটাই স্বাভাবিক। কাঁটা গাছ বপন করে সুমিষ্ট ফলের আশা করা যায় না। আপনি কাঁটা গাছ বপন করেছেন, খোঁচা তো আপনাকে খেতেই হবে।
মাননীয়া, আপনি রাজ্যের ক্লাবগুলোকে জনগনের করের টাকার থেকে বাৎসরিক মোটা চাঁদা দিয়েছেন অথচ গত প্রায় দশ বছরে আপনার সরকার বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য কিছুই করেননি। ক্লাবে মোচ্ছব করিয়ে ভোটে জেতা যায় কিন্তু বিপর্যয় মোকাবিলা করা যায় না। আপনার আছে শুধু গিমিক আর প্রচার সর্বস্ব রাজনীতি। গাদাগাদি করে লোকজন সহকারে, অগুনতি সংবাদমাধ্যমের লোকজন নিয়ে আপনি কখনো রাস্তায় দাগ কাটছেন, কখনো নিজের হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে প্রবচন শুনিয়েছেন। রাস্তাঘাটে ভিড় করে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং এর বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন। আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসনের তো আগাম তৈরী থাকা উচিত ছিল। আমফান পরবর্তী আজকের দিনগুলিতে চারিদিকে শুধুই চূড়ান্ত বিভীষিকা। আজও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হল না। খাবার জল নেই, খাবার নেই। রাস্তাগুলো গাছ পড়ে আটকে রয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ানো। আপনার দপ্তরের হাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। যথেষ্ট কর্মী নেই। চারিদিকে শুধুই হতাশা আর নৈরাজ্য। কি করেছেন এতদিন ? শুধু জনগনের করে টাকায় উৎসব আর ক্লাবগুলোকে বাৎসরিক চাঁদা দেওয়া ছাড়া ? আপনি না রাজ্যের নাগরিকের মুখ্যমন্ত্রী ? নাকি কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের জন্য আপনার চিন্তাভাবনা সীমাবদ্ধ ?
আমাদের জাতীয় গর্ব ভারতীয় সেনাবাহিনী কিন্তু আপনার রাজ্য প্রশাসনের মত অপদার্থ নয়। তারা কাজে নেমেছে। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় রাজ্য ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই অপরিসীম সেবার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য। ঠিক সেভাবেই আপনার প্রাপ্য শুধুই ব্যর্থতা।
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আপনি কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অথচ আপনার কাজকর্মে আপনাকে তৃণমূল প্রধান ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। আমফান ঘূর্ণিঝড়ে যখন রাজ্যবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা, মানুষ ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, তখনও আপনি কদর্য রাজনীতি করছেন!!!
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতা তথা জনগনের রায়ে নির্বাচিত সাংসদ মাননীয় দিলীপ ঘোষকে আপনার পুলিশ কোন যুক্তিতে রাস্তা আটকে দাঁড়ায় ? দিলীপ বাবু তো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। একজন জনপ্রতিনধিকে আটকে দেওয়া কি গণতন্ত্র বিরোধী কাজ নয় ? অথচ যখন আপনার প্রশাসন নাগরিকদের ন্যূনতম পরিষেবা দিতে ব্যর্থ তখন দিলীপ ঘোষ নিজে রাস্তায় নেমে কাজ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে দিলীপ বাবু নিজের হাতে দা নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছপালা কাটছেন। দিলীপ বাবুর এই ছবি কোন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়নি। কারন উনি কাজ করতে চেয়েছেন, প্রচার করতে নয়। সংবাদ মাধ্যম, ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি থেকে শত হস্ত ব্যবধানে থেকে উনি নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটাই তো আসল কাজের কাজ। উনি কাজ করছেন। উনি কাজ করেন। মানুষ জানেন যে কাজ করে তাকে কাজ দেখাতে হয় না। কারণ ” বৃক্ষের পরিচয় তার ফলে “।
মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়া, আপনি একবার অন্তর মন্থন করে দেখুন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কিন্তু সব দেখছে। প্রচার সর্বস্ব কাজ না করে কাজের কাজটুকু করুন। ২০২১ এর দেওয়াল লিখন কিন্তু স্পষ্ট। জনগনের আশীর্বাদ কিন্তু দিলীপ বাবুদের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। মানুষ কিন্তু সব দেখছে। সময়ের মূল্য দিতে শিখুন।
“A leader is one who knows the way, goes the way, and shows the way”, and Dilip da is best example ever of it.

Sender: সৌমিত্র সান্যাল, দেশবন্ধু পাড়া (শিলিগুড়ি)