সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভের চারা পোঁতাই যায়না তাও আবার ৫কোটি! পাগলের মত কথা!

লিখেছেন- সোমেন্দ্র ঘোষ।

আমাদের সকলের প্রিয় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সুন্দরবন অঞ্চলে মোট৫০০০০০০০ পাঁচকোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাবেন। সময় লাগবে এক মাস।
প্রথমত পাঁচকোটি ম্যানগ্রোভ গাছ আসবে কোথা থেকে আমি জানিনা। উনি নিশ্চয়ই জানেন। হয়ত ঠিক যোগাড় করতে পারবেন।
তারপর সময়সীমা একমাস। ধরে নিলাম সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ঘন্টা গাছ বসানো হবে, মাঝে চা জলখাবার এবং দুপুরের খাবার জন্য ২ঘন্টা বাদ দিলে মোট ৮ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে গাছ বসানো হবে।
একমাস অর্থাৎ ৩০দিনে (রবিবার বা ছুটির দিনের কথা নাহয় বাদই দিলাম) মোট সময় পাওয়াযাবে ৩০×৮×৬০=১৪৪০০ চৌদ্দ হাজার চারশো মিনিট। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ কোটি গাছ বসাতে হলে, প্রায়৫০০০০০০০÷১৪৪০০=৩,৪৭২.২ অর্থাৎ প্রতি মিনিটে তিন হাজার চারশো বাহাত্তরটিরও বেশী গাছ লাগাতে হবে।
বাপরে! ভাবতেই আমার শরীর আনন্দে কিরকম – কিরকম করছে। তার মূল কারণ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমার পুরো ১০০% ভরসা আছে।
উনি সব পারেন। এবারেও পারবেন।
অচিরেই আমরা শুনতে পাবো সব গাছ লাগানো হয়ে গেছে।
🌱🌿🌱🌿🌱🌿🌱🌿🌱🌿🌱🌿 কিভাবে সম্ভব আমার মোটামাথায় ঢুকছে না
গত ২৯ শে মে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা ১০লক্ষ ম্যানগ্রোভ লাগানোর পরিকল্পনা করেছি’। পরিবেশপ্রেমীরা তো বটেই আমাদের মতো সাধারণ মানুষও খুশি হয়েছিলেন। চার দিন পর গতকাল নবান্ন থেকে জানিয়েছেন ‘আমরা ৫কোটি ম্যানগ্রোভ লাগাবো’। এইবার মনে সন্দেহ শুরু হলো।
বিগত ২০১১ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার বছরে রাজ্যে ম্যানগ্রোভ বা বাদাবনছিলো ২১৫৫বর্গকিমি। আর২০১৯ সালের ফরেস্ট সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে বাদাবন আছে২১২২বর্গকিমি। অর্থাৎ ৩৩ বর্গকিমি বাদাবন কমেছে।
আমফানের আগে এমন প্রলয়ঙ্কর ঝড়ে বাদাবনের ক্ষতি হয়েছিলো ২০০৯ সালে আয়লায়।
এবার দেখা যাক ম্যানগ্রোভ জঙ্গল কিভাবে বাড়ে।ম্যানগ্রোভের চারা লাগানো যায় না। ম্যানগ্রোভের বীজ পুঁততে হয়। এই বীজ সুন্দরবনের নদীতে ভেসে আসে, রাজ্যের বন দপ্তর রীতিমতো লোক লাগিয়ে, মজুরি দিয়ে নদীর পাড় থেকে সেই বীজ সংগ্রহ করে। সারা বছর আবার এই বীজ পাওয়া যায় না। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই এই বীজ পাওয়া যায়। এক মরশুমে সর্বোচ্চ ২০-২৫ লাখ বীজ সংগ্রহ করা যায়। সংগৃহীত সব বীজ আবার ব্যবহার যোগ্য নয়। ম্যানগ্রোভ বীজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বপন যোগ্য করে তোলা হয়।
এবার এই প্রক্রিয়াজাত বীজ বপনের কায়দা আছে। এটা সময় সাপেক্ষ এবং পরিশ্রম সাধ্যও বটে। কেবল লোনা নদীর ধারেই ম্যানগ্রোভ বীজ বপন করা যায়। যখন ভাঁটা থাকে দ্রুততার সঙ্গে গর্ত খুঁড়ে বীজ পুঁততে পুঁততে যেতে হয়। জোয়ার এলেই বীজ বপনের কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
এবার চলুন দেখি ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগাতে কত সময় লাগতে পারে। সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ ফরেস্ট অফিসারের বক্তব্য অনুযায়ী সুন্দরবনের জঙ্গলে এক লপ্তে ১ বর্গ কিমি জায়গা পাওয়া কঠিন। যদি পাওয়া যায় তবে এক ফুট ফাঁক রেখে ৩৩ টি সারিতে ম্যানগ্রোভ বীজ পুঁতলে এক বর্গ কিমি জমিতে ৯৯ হাজার বা ১ লক্ষ বীজ পোঁতা সম্ভব। এই সব বীজ থেকেই গাছ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ধরে নিলাম সব বীজ থেকেই গাছ হলো এবং বেঁচে গেলো। তাহলে ৫ কোটি বীজ লাগাতে জমি কত লাগবে? ৫০০ বর্গ কিমি এবং এটা নদীর ধারে লোনা জলের এলাকায় হতে হবে।
এবার হিসেব করুন ৫ কোটি ম্যানগ্রোভের চারা পেতে কত সময় লাগবে? পাটিগণিতের হিসেবে যদি ২৫ লক্ষ ম্যানগ্রোভ বীজ পোঁতা হয় বছরে, তার সবগুলোই যদি গাছ হয়, #তাহলে৫কোটিম্যানগ্রোভচারা #পেতে২০বছরলাগবে।