পরিচিতি

এক নজরে দিলীপ দা

শৈশব ও কৈশোর
পরিবার পরিচিতি
সামাজিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক সংক্ষিপ্তসার

শৈশব ও কৈশোর

ঝাড়গ্রাম জঙ্গলমহলের অন্তর্গত গোপীবল্লভপুর ব্লকের অধীনস্থ ছোট্ট একটি জনপদ কুলিয়ানা গ্রাম। সবুজ বনানী তে মোড়া কাশফুলে ভরা ওড়িষ্যা সীমান্ত সংলগ্ন এই গ্রাম আজ বঙ্গবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু কারণ ১৯৬৪ সনের ১লা আগস্ট ঘোষ পরিবারের ঘর আলো করে  এখানেই জন্মগ্রহণ করেন বিরল প্রতিভা সম্পন্ন বঙ্গমাতার দামাল ছেলে দিলীপ ঘোষ। চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় দিলীপ ঘোষের পিতা স্বর্গীয় ভোলানাথ ঘোষ ইতিমধ্যেই পরলোকে গমন করলেও, ছেলের কৃতিত্বে গর্বিত মাতা পুষ্পলতা দেবী আজও বর্তমান। পেশায় কৃষিজীবী ভোলানাথ বাবু কৃষিকর্মের পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য সমাজ সেবক ছিলেন। তিনি পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার পর বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অবধি প্রবল আনুগত্যের সাথে বিজেপি দলের কার্য নির্বাহ করেন। সেই সুবাদে বলা যেতে পারে যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দিলীপ দার বংশগত। দিলীপ দার অন্যান্য ভাইয়েরাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজেপির সাথে যুক্ত। আগাগোড়া পিঠে পাগল দিলীপ দা আজও সুযোগ পেলে মায়ের কাছে চলে যান মায়ের আশীর্বাদ কুড়োনো আর পিঠে খাওয়ার টানে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কুলিয়ানা গ্রামের বুক চিরে কল কল রবে বয়ে চলেছে শান্ত স্ফীত  সুবর্ণরেখা, আর নদীবিধৌত এই অঞ্চলে নদী যেন নদীতীরের মানুষগুলোর জীবনের স্বরলিপি। এই নদীতে মাছ ধরে আর সাঁতার কেটে শৈশব অতিবাহিত হয় প্রিয় দিলীপ দার। ঠিক যেমন বিভিন্ন কাব্যিক ব্যঞ্জনায় নদী পেয়েছে ভিন্ন এক বহুমাত্রিকতার বিচিত্র রূপ, একইভাবে অনেক বর্ণের রেখাঙ্কন হলেন আমাদের দিলীপ দা। আপাত নিরীহ শান্ত বিনম্র গ্রাম্য অথচ সুদর্শন বলিষ্ঠ দিলীপ দা, প্রয়োজনে হয়ে ওঠেন অমিতবিক্রম একজন জননেতা যিনি সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব প্রদানে অভ্যস্ত।নদী স্রোতস্বিনী তাই নদী বেগবান, জীবনে দ্বন্দ্ব আছে, অঙ্গীকার আছে, আছে চোঁখে স্বপ্ন তাই জীবন বৈচিত্র্যময়” ……….. এই আপ্তবাক্যের সেরা বিজ্ঞাপন আমাদের দিলীপ ঘোষ।

শৈশবের অনেকটা অংশ জুড়ে মামাবাড়ি। বাগডিহা গ্রামে অবস্থিত মামাবাড়িতে থেকেই বাবুডুংরো বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ দিলীপ দার। মামীর আদরে মাখা প্রিয় পান্তা ভাত আজ সময়ের অভাবে ভাগ্যে না জুটলেও স্মৃতিতে অম্লান। মামাবাড়িতে থাকা কালীন মাত্র আট বছর বয়সেই সংঘের প্রতি আকৃষ্ট হন বালক নাড়ু ওরফে দিলীপ দা। সেই ১৯৭২ সন থেকেই RSS এর শাখায় নিয়মিত যোগদান করেন বালক দিলীপ, হয়ে ওঠেন একজন স্বয়ংসেবক। মামাবাড়িতে থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন কিশোর দিলীপ। সেখানে থেকে বাকি পড়াশোনা শেষ হতেই কৈশোরেই পাকাপাকি ভাবে গৃহত্যাগ করেন দিলীপ ঘোষ। আসলে যার চোঁখে আশৈশব সমাজ সংস্কারের স্বপ্ন, দেশমাতৃকার হাতছানি যে তাকে বিহ্বল করে তুলবে তা তো চিরাচরিত। বাবা মায়ের অনুমতি সাপেক্ষে, তাঁদের আশীর্বাদ নিয়ে অকুতোভয় দিলীপ এগিয়ে চললেন অজানার উদ্দেশ্যে। সদ্য যৌবনে পদার্পণ করা দিলীপতৎকালীন প্রচারক শ্রী জয়দেব সিংহ রায় প্রান্ত প্রচারক কেশবচন্দ্র দীক্ষিতের সান্নিধ্যে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে, সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, ততদিনে একজন স্বয়ংসেবক যার পাকাপাকি আশ্রয় সংঘের নিবাস। সেই যে যাত্রার শুরু তা আজও চলমান। স্বপ্ন এখন বঙ্গমাতা কে এই অধঃপতনের থেকে রক্ষা করা, বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যতদিন এই স্বপ্ন পূরণ না হচ্ছে একটাই মন্ত্র চরৈবতি চরৈবতি   ….. ……….।।

পরিবার পরিচিতি​

ঠাকুর্দা স্বর্গীয় হজহরি ঘোষ  যিনি পেশাগত ভাবে তদানীন্তন ওড়িষ্যার রাজার তহসিলদার ছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সে সময় কুলিয়ানা গ্রাম ওড়িষ্যার অধীনস্থ ছিল।

পিতা : স্বর্গীয় ভোলানাথ ঘোষ। পেশাগত ভাবে একজন কৃষিজীবী ছিলেন, এছাড়া তার সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আজও মানুষ মনে রেখেছিলেন। পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন, পরবর্তীতে বিজেপির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজেপি তে যোগদান করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একজন অনুগত সেনানী হিসেবে বিজেপির কার্য্যডার নির্বাহ করেন। এমারজেন্সি চলাকালীন তৎকালীন ডাকসাইটে নেতা সন্তোষ রানা কে নির্বাচনে জেতাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

মাতা : শ্রীমতি পুষ্পলতা ঘোষ।

বড় ভাই একজন অবসরপ্রাপ্ত সহ প্রধান শিক্ষক। আয়ুর্বেদ নিয়ে চর্চা করেন এবং পতঞ্জলী যোগপীঠের একজন সক্রিয় কর্মী। সংঘের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

মেজো ভাই হলেন আমাদের দিলীপ দা
সেজো ভাই ওড়িষ্যাতে চাকরী করেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক এবং আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি করেন।একজন সক্রিয় স্বয়ংসেবক। ট্রেড ইউনিয়ন সহ বহু সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

ছোট ভাই একজন স্বয়ংসেবক এবং বিজেপি দলে উৎসর্গকৃতপ্রাণ একজন বুথ প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত।

g family

পরিবার

রাজনৈতিক সংক্ষিপ্তসার

সংঘের বিভিন্ন দায়িত্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর সংঘের নির্দেশে দিলীপ দা কে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের সাধারণ সম্পাদকের পদে মনোনীত করা হয় 2015 সালের জানুয়ারি মাসে।

2015 সালের ডিসেম্বরে দিলীপ দা বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ সভাপতি মনোনীত হন।

মাত্র এক বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তাকে দলের নির্দেশিকা মেনে খড়গপুর সদর” থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। হেলায় পরাজিত করেন পঁয়তাল্লিশ বছরের টানা বিধায়ক জ্ঞান সিংহ সৎপাল ওরফে চাচা জী কে। 2016 সালে বিধায়ক হলেন আমাদের সকলের প্রিয় দিলীপ ঘোষ।

2019 সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়া ডাকসাইটে নেতা ডঃ মানস ভুঁইয়া কে পরাজিত করে সাংসদ পদ লাভ করে নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। উল্লেখযোগ্যযে একজন রাজ্য সভাপতি হিসেবে তিনি নিজে জেতার পাশাপাশি জিতিয়ে আনেন আরও সতেরো জন সাংসদ কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস কে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ছিনিয়ে আনেন মোট একচল্লিশ শতাংশ ভোট যা শতাংশের নিরিখে শাসক দলের থেকে মাত্র দুই শতাংশ কম। রাজ্য সভাপতি হিসেবে অদম্য এক জেদ দিলীপ দা কে বসিয়েছে জননেতার সিংহাসনে। নজির বিহীন ভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একসাথে আঠারো জন সাংসদ জিতিয়ে এনে দিলীপ রচনা করেছেন ঐতিহাসিক এক অধ্যায় যা দীর্ঘদিন স্বর্ণালী অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।

2020 সালের 16ই জানুয়ারি বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অসামান্য অবদানের পুরস্কার স্বরূপ দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্য সভাপতি র পদে নির্বাচিত হন।

dilip da

সামাজিক প্রেক্ষাপট

-

1984 সালে পাকাপাকি ভাবে গৃহত্যাগ করেন এবং যাদের সান্নিধ্য লাভ করেন তাদের মধ্যে জয়দেব সিংহ রায় (তৎকালীন প্রচারক) এবং কেশবচন্দ্র দীক্ষিত (তৎকালীন প্রান্ত প্রচারক) দুটি প্রমুখ নাম। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে মূলত এনাদের অনুপ্রেরণায় দিলীপ দার এই গৃহত্যাগের বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত।

-

একজন স্বয়ংসেবক হওয়ার পর তিনি এগারো বছর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রচারক হিসেবে 24 পরগণা জেলায় যথাক্রমে নগর, খন্ড, মহকুমা প্রচারক হিসেবে কাজ করেন, পরবর্তীতে জেলা প্রচারকের দায়িত্বে উন্নীত হন। (1985 - 1996)।

-

1996 - 1999 এই তিন বছর তিনি আসানসোলের বিভাগ প্রচারক হিসেবে দায়িত্ব নির্বাহ করেন।

-

1999 -2008 মোট আট বছরেরও অধিক কাল সময় তিনি বিভাগ প্রচারক হিসেবে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ব্যতীত করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে সুনামী চলাকালীন তিনি আন্দামান নিকোবরের দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁর প্রশংসনীয় কর্মকুশলতা সংঘের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ও প্রশংসিত হয়।

-

2007 - 2010 এই তিন বছর তিনি আন্দামান থেকে ফিরে এসে পূর্ব কলকাতায় সাফল্যের সঙ্গে বিভাগ প্রচারকের দায়িত্ব নির্বাহ করেন।

-

2010 - 2014 অক্টোবর পর্যন্ত নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এবারে দিলীপ দা হিন্দু জাগরণ মঞ্চ কে বিস্তার করার দায়িত্বে। প্রথমে দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত প্রমুখ এবং পরবর্তীতে ক্ষেত্র (বঙ্গ এবং উড়িষ্যা) প্রমুখ হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেন। দিলীপ দার কার্য্যকালেই গোটা বাংলা ব্যাপী রাম নবমীর মিছিল এত ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করে যা আজও ক্রমবদ্ধর্মান। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দায়িত্বে থাকাকালীন দিলীপ দা বাংলা ছাড়াও ভ্রমণ করেন আন্দামান নিকোবর, ওড়িষ্যা ও সিকিমের মত রাজ্য।

স্বয়ংসেবক দিলীপ দার কিছু উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব।
  • প্রথম বর্ষ মুখ্য শিক্ষক 1998
  • তৃতীয় বর্ষ শিক্ষক 1995, 1996
  • প্রদেশ প্রমুখ তৃতীয় বছর 2008
  • একজন প্রচারক হিসেবে প্রায় 21 বার তাঁর ঠিকানা বদল হয়।
বিদেশ সফর

প্রচারক হিসেবে আমেরিকা, বাংলাদেশ, নেপাল ভ্রমণ করা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দের সফরসঙ্গী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সৌভাগ্য লাভ করেন। ভ্রমণ করেন বেনিন, গাম্বিয়া ও গিণির মত রাষ্ট্র।

তথ্যচিত্র

Play Video