নৈরাজ্যের পশ্চিমবঙ্গ

সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপী আজ যে অরাজক অবস্থা চলছে তা তুলে ধরতেই আমাদের এই উদ্যোগ নৈরাজ্যের পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খামখেয়ালি আচরণ আর প্রশ্রয়ে পশ্চিমবঙ্গের আনাচেকানাচে আজ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, খুন ধর্ষণের মতো ঘটনা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করা হিংসাশ্রয়ী পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলের রাজনীতি করলে তাকে পড়তে হয় শাসকের রোষানলে, চলে যেতে পারে প্রাণ যে কোন মুহূর্তে। এ হেন পশ্চিমবঙ্গের হাল হকিকত জানতে চোঁখ রাখুন নৈরাজ্যের পশ্চিমবঙ্গ পাতায়।

কথায় বলে, “বিষে বিষক্ষয়”, কিন্তু 20 এর বিষে মানুষের প্রাণ আজ ওষ্ঠাগত। 2020 এর প্রারম্ভ থেকেই করোনার করাল গ্রাসে বিশ্ববাসীর জীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে নৈরাজ্যের এই পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মমতাহীন সরকারের দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণে জনজীবন আরও বেশি বিষাক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেশনের চাল থেকে নিয়ে আর্থিক তছরুপ, নিরন্তর দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারের নীতিপঙ্গুত্ব আজ বাঙালীর জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। আসলে সদিচ্ছার অভাব থাকলে যা হয় আর কি। একে তো করোনার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে মাননীয়ার বদান্যতায়। করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত সরকারের গয়ংগচ্ছ মনোভাব আজ জাতি কে দাঁড় করিয়েছে এক অভিশপ্ত অধ্যায়ের মুখোমুখি। একা রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব তার দোসর। এই করোনা আবহের মধ্যেই গত ২০ মে পশ্চিমবঙ্গের ওপর আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আমফান। চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের প্রস্তুতির অভাব ও অপদার্থতা। সরকারের গাফিলতির কারণে বাংলা হয় ব্যাপকভারে ক্ষতিগ্রস্ত, মানুষ হয় সর্বশান্ত। তবে আশার কথা হল, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃবর্গের, বাংলার মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার মরিয়া প্রয়াস। স্বভাব সুলভ বৈশিষ্ট্যই দিলীপ ঘোষ রওনা দিলেন মানুষের এই দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়াতে। বাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন সাহায্যের হাত, হয়তো বা কিছুটা সহমর্মিতার পরশ। কিন্তু না, এবারেও হল না। পথ অবরোধ করে দাঁড়ালেন দিদিমণির দলদাসে পরিণত হওয়া পুলিশ প্রশাসনের একাংশ। মাননীয়া নিজে সদলবলে হাত গুটিয়ে বসে রইলেও, মানুষ কে কিছুতেই বুঝতে বা জানতে দেওয়া যাবে না যে
সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন রাজ্য বিজেপি আছে বাংলার মানুষের সঙ্গে। অতএব মাঝ পথ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল দিলীপ বাবু কে। শুধু কি দিলীপ বাবু একা? যে সমস্ত বিজেপি সাংসদ রা গিয়েছিলেন ত্রাণ বিলি করতে, তাদের যেতে তো দেওয়া হয়ই নি, উল্টো গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে, জয়ন্ত রায়, শান্তনু ঠাকুর, জন বার্লা লকেট চট্টোপাধ্যায় বা দেবশ্রী চৌধুরীর মত সাংসদদের নিজের সংসদীয় এলাকায় ঢুকতে দেওয়া তো হয়ই নি, বরঞ্চ হতে হয়েছে পুলিশের লাঞ্ছনার শিকার। এটা কি ধরনের গণতন্ত্র? যেখানে একজন সাংসদ কে পোহাতে হয় রাজ্য পুলিশের অত্যাচার সহ হাজারো উপদ্রব, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা যে আরও বিভীষিকাময় তা বোঝার জন্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

পোড়া জিনিস যেমন আর দ্বিতীয় বার পোড়ে না, ঠিক অনুরূপ ভাবে আর কোন লজ্জাই মাননীয়া কে আর নতুন করে লজ্জিত করে না। বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার কে ত্রাণ দান থেকে জোরপূর্বক বিরত করেন দিদিমণির মোসাহেবি করা রাজ্য পুলিশ। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন নি পেশায় অধ্যাপক সুকান্ত বাবু। কিন্তু আজ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ত্রাণ কার্যের অনুমতি পেলেন সুকান্ত বাবু। আরও একবার মুখ পুড়িয়ে রাজ্য সরকার প্রমাণ করল যে পোড়া জিনিস আর পোড়ে না।

আসলে তুঘলকি শাসনের শিরোমণি মমতা দিদিমণি ভয় পেয়েছেন। ভয় পেয়েছেন কারণ দেওয়ালের লিখন ক্রমশ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠছে। জনগণের রায়ে যে তার ও তার সরকারের অকাল সলিল সমাধি আসন্নপ্রায়, সে কথা দিদিমণি বিলক্ষণ জানেন। আর জানেন বলেই তার মতিভ্রম ঘটেছে। পেশী শক্তির আস্ফালনে বিজেপি কে আটকে রাখা যায়নি, যাবেনা। কারণ গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে সাধারণ মানুষ।

দৃশ্য এক: 

প্রধানমন্ত্রীকে হরিদাস পাল আখ্যায়িত করা, তুই তোকারি করে সম্বোধন করা আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আমফান পরবর্তী রাজ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে বঙ্গ বিহারে আসার জন্য কাতর আকুতি করছেন। সেই সঙ্গে বেদনাক্লিষ্ট বদনে অনুনয় বিনয় করছেন যাতে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মতাদর্শগত প্রভেদ ভুলে অসহায় মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যবাসীর পাশে সর্বান্তকরণে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভাবতে লজ্জা লাগে যে ঠিক কতটা নীচে নামতে পারলে একজন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কে প্রকাশ্য জনসমক্ষে  কোমরে দড়ি পরানোর হুমকি দিতেও কুন্ঠা বোধ করেন না। অথচ ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই মুখ্যমন্ত্রী কেই দু হাত পেতে দাঁড়াতে হয় প্রধানমন্ত্রীর সমক্ষে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অমায়িক মানুষ, মনে রাখেন নি এসব দুঃখজনক ঘটনা। মমতাদেবীর এই কাতর আর্তনাদ উপেক্ষা করতে পারেননি জাতির জন্য উৎসর্গকৃতপ্রাণ  আমাদের কর্তব্যপরায়ণ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছুটে এলেন, দেখলেন এবং আবারও জয় করলেন বঙ্গবাসীর হৃদয়। এক হাজার কোটি টাকার অগ্রিম  অর্থ সাহায্য বরাদ্দ করলেন বাংলার পুনর্গঠনে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অর্থ ছাড়াও যাবতীয় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন। এই প্রথমবারের মতো  দুর্ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদার্পণের দুর্লভ ঘটনার সাক্ষী রয়ে গেলেন বাংলার মানুষ। 


দৃশ্য দুই:

আবার নির্লজ্জ রাজনীতি, আবার গণতন্ত্র কে গলা টিপে হত্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর দলদাসে পরিণত হওয়া  পুলিশ প্রশাসন। বিধ্বংসী আমফানে বিধ্বস্ত সর্বস্বান্ত বঙ্গবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতায়, নিজের সহমর্মিতা জানাতে রওনা হয়েছিলেন উদ্বিগ্ন দিলীপ দা। উদ্দেশ্য ছিল সহানুভূতির সাথে  অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যথাসম্ভব সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া। লোকপ্রিয় নেতা তথা ঘরের ছেলে দিলীপ দা কে কাছে পেয়ে মানুষ যে অনেকটাই আশ্বস্ত হতেন, এ তথ্য তো মাননীয়ার বিলক্ষণ জানা। কাছের মানুষ কে কাছে পেয়ে যে মানসিক ভাবে বল পাওয়া যায়, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অতএব সহমর্মিতার এই যাত্রা থেকে যেন তেন প্রকারেণ নিরস্ত করতে হবে জনপ্রিয় এই বিজেপি নেতা কে। লেলিয়ে দেওয়া হল সস্নেহে লালিত পুলিশ বাহিনী কে। মনিবের আদেশ বলে কথা !! ঝাঁপিয়ে পড়লেন পুলিশ কর্মীরা যাতে মনিবের নেক নজরে থাকা যায়। অতএব মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে চলা দিলীপ দার যাত্রাপথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো, মমতার মমতা হীন পুলিশ বাহিনী যে বীরপূঙ্গব পুলিশ বাহিনী  কে কদিন আগেই আমরা টিকিয়া পাড়ায় মারের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে দেখেছি। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেও এগোতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। বঞ্চিত করা হল বাংলার অগুণতি জনতা কে যারা তাদের এই অসহায় মুহূর্তে পাশে পেতে চেয়েছিলেন প্রিয় নেতা দিলীপ দা কে। চোঁখের দেখা দেখতে চেয়েছিলেন একটি বারের তরে। পুলিশি বাধায় ফিরে আসতে বাধ্য হলেন এই জন প্রতিনিধি। আবারও একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  নির্লজ্জ রাজনীতির শিকার হলেন দিলীপ বাবু, বঞ্চিত হলেন বাংলার মানুষ। যিনি নিজে এই মুহূর্তে রাজনীতি থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছেন, তিনি নিজেই করে চলেছেন ঘৃণ্য সঙ্কীর্ণ রাজনীতি যা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কেই রীতিমত হাস্যাস্পদ করে তুলছে। আপাত দৃষ্টিতে জয়ের আনন্দে পুলকিত হলেও আসলে মানুষের হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে  হারিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জনপ্রিয়তা আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। তাই মমতা দেবী আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ়, উনি সবেতেই দিলীপ ঘোষের ভুত দেখছেন। দেওয়াল লিখন ক্রমশ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই শুনতে পাচ্ছেন বিদায়ের করুণ মূর্চ্ছনা। আর মাত্র কয়েক টা মাস, 2021 আগতপ্রায়। বিসর্জিতা হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায় দেবে সাধারণ মানুষ কারণ গণতন্ত্রে যে তাদেরই অধিকার। 

আমাদের আশঙ্কা কে সত্য প্রমাণিত করেই গতকাল 

 সন্ধ্যে থেকে CN চ্যানেল পড়ে গেল মাননীয়ার রোষানলে। SITI cable কে চাপ দিয়ে বন্ধ করানো হল সম্প্রচার। কালার বার কে হাতিয়ার  করে গলা টিপে কন্ঠরোধ করা হল গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যমের। আর SITI CABLE যেহেতু বৃহত্তম কেবল অপারেটর তাই তাদের দিয়েই করা হল কাজটি ।  


CN এর অপরাধ? তারা নাকি ক্রমাগত আয়না দেখিয়ে যাচ্ছিলেন মাননীয়া আর তার নেতৃত্বাধীনসরকার কে। CN এর অপরাধ যে তারা পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সত্য পরিবেশন করে যাচ্ছিলেন। মাননীয়ায় অনুপ্রাণিত তো হতেই পারেন নি উল্টে রাজ্য সরকারের যাবতীয় অপকর্ম গুলি অকপটে তুলে ধরেছিলেন নিজেদের চ্যানেলের পর্দায়। 

পশ্চিমবঙ্গে থাকবে আর মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে কথা বলবেনা, এ আবার কেমনতর আব্দার ! সবাই যখন বলছে তুমি বলবে নাই বা কেন ? স্থায়ী ভাবে black out করলে, আন্দোলন হবে, হৈ হুল্লোড় হবে । সংবাদ স্বাধীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হবে, খবর ছড়িয়ে পড়বে রাজ্যের বাইরেও। একটি সংবাদ মাধ্যমের সমর্থনে এগিয়ে আসতে পারে সবকটি সংবাদ মাধ্যম, তখন তো বমি গেলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তাই ঘুরিয়ে বন্ধ করা হল সম্প্রচার । 


এখানে দুটি ঘটনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।


সালটা ২০১৬, কলকাতা টিভি তখনও অনুপ্রাণিত হতে পারে নি।  নিজের সুরে নিজের ভাষায় কথা বলত । তৎকালীন কলকাতার মেয়র শোভন  চট্টোপাধ্যায়  সমস্ত অপেরেটর দিয়ে কলকাতা টিভি র সম্প্রচার বন্ধ করালেন । তারপর অন্যান্য হাই ডোজ antibiotics প্রয়োগ করে পথে আনলেন চ্যানেলকে । এখন পুরোপুরি ‘অনুপ্রাণিত’ । Mission Accomplished.


অনিক দত্তের ‘ভূতের ভবিস্যতের’ কথাও আপনাদের নিশ্চয়ই মনে পড়ছে । নন্দন চত্তরে  ফিল্ম উৎসবে নির্লজ্জের মত মমতার কাট আউট দেখে শালীন ভাবে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন । অন্যান্য তথাকথিত স্বল্প মূল্যে মাথা বিক্রি করা  বুদ্ধিজীবীরা তখন এটা ওটা পাওয়ার লোভে দেখেও না দেখার ভান করছিলেন । ফলে ম্যাডামের যাবতীয় রাগ জমা হল অনিক দত্তের ওপর । রাতারাতি ভবিষ্যতের ভূত ভ্যানিসড হল ২০টি হল থেকে । ফিল্ম দুনিয়ার দুই বিশ্বাস brothers কে দিয়ে কাজটি করিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যদিও  ভবিষ্যতের ভূতের producer নাকে খদ দিতে বাধ্য করেছিলেন রাজ্য সরকারকে । হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট দৌড়ে  ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণও আদায় করেছিলেন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। হলে কি হবে নির্লজ্জের তো লজ্জা নেই । দু কান কাটা । চামড়া মোটা । বেলতলায় বারবার যায়,  মুখ ও পোড়ে।  পুড়লে কি হবে, উনি ভালোভাবেই  জানেন যে ‘পোড়া মুখ’ বারবার পুড়লে লোকে ধরতে পারেনা ।   


ক’দিন আগেই নবান্নের evening show তে CNএর মণীশ কীর্তনিয়াকে ধমকেছিলেন । তোমার প্রশ্নের উত্তর দেব না । পরে চমকেছিলেন – মণীশ, তুমি নবান্নে ঢুকলে কি করে ? তোমার তো accredition নেই। Accredition তো সত্যিই নেই । CN চ্যানেলের কোন সাংবাদিককে accredition দেয়নি নবান্ন । অনুপ্রাণিত না হওয়ার অপরাধে । তাও চলছিল । পছন্দ হল না তাঁর । লেলিয়ে দিলেন  cable operator দের ।  একদম ২০১৬ স্টাইল । যে ভাবে কাছে এনেছিলেন কলকাতা tv কে । পুরানো  ছক । শুধু নতুন খদ্দের ।


ঠিক একইভাবে বন্ধ করানো হয়েছে আরামবাগ চ্যানেল কে। কি অপরাধে ? আরামবাগ চ্যানেলের মারাত্মক অপরাধ, তারা  নাকি  মুখ্যমন্ত্রীর ক্লাবে ক্লাবে এক লক্ষ টাকা করে ঘুষ দেওয়ার ঘটনা সরাসরি  টেলিকাস্ট করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী এই খয়রাতি দেওয়ার কাজটি করেছিলেন দলদাসে পরিণত হওয়া পুলিশ কর্তাদের হাত দিয়ে। সেই আরামবাগ টিভি আজও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।


CN চ্যানেল বশ্যতা স্বীকার করবে কি না জানিনা । উনি CN এর accredition আটকাবেন । একের পর এক একে ওকে দিয়ে legal notice খাওয়াবেন । পুলিশ লেলিয়ে দেবেন । নবান্ন সহ সব সরকারি অফিসে ঢোকা বন্ধ করে দেবেন । বিজ্ঞাপনের হাত ছানি  দেওয়াবেন । পুরসভাকে দিয়ে CN চ্যানেলের building tax লাগামহীন করে দেবেন । সব অস্ত্র প্রয়োগ করবেন । বিদায় যোগ যত কাছে আসবে । 

  


সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার এই নির্লজ্জ শয়তানির মগজের বিরুদ্ধে আজ কথা বলতেই হবে সব্বাইকে । জাত, ধর্ম, দল, রং খোঁজার সময় আজ নয় । আগুন লেগেছে শিয়রে । ঔদ্ধত্বের সেই আগুন নেভাতেই হবে ।   

       

প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ুক  কলমে কলমে,  মস্তিষ্কের অন্দরে, হৃদয়ের অলিন্দে। প্রমাণিত হোক আরও একবার, অসির চেয়ে মসি দর।

       

শুরু হোক নতুন করে বুঝিয়ে দেওয়ার দিন ।।   মুখ খোলার দিন । সূচনা হোক এক নতুন জনচেতনার, আর নয় অন্যায়। 


আর মাননীয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের সতর্ক বার্তা, “তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।” অতএব সাধূ সাবধান। 2021 আসতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। দেওয়াল লিখন ক্রমশ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠছে, “আর নয় কোন ভুল, এবার পদ্মফুল”। কারণ রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং বলে গিয়েছেন যে, “দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো”।

অবশেষে ফাঁসিতে ঝুললেন বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ। অতএব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না তিনি।

আর একটি বিয়ে করে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ কোলকাতার পার্কস্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের এক ভাড়া বাড়িতে পেতেছিলেন নতুন সংসার। সেই ঘরে তার ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পাশের তালতলাতে ২৫ লাখ টাকায় কিনেছিলেন সাধের ফ্ল্যাট। কিন্তু বড় সাধের এই ফ্ল্যাটে ওঠার সৌভাগ্য তার আর হল না। সেই নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার আগেই তাকে ঢাকায় ফাঁসির দড়িতে ঝোলা তার অদৃষ্টে লেখা আছে, সেটা কি আর তিনি জানতেন?

সন্ত্রাসবাদের আতুঁড়ঘর পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় টানা ২২ বছর নির্ভয়ে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ। সবটাই নিজেকে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে। সেখানে তার নাম ছিল আহমেদ আলি। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র পরিচয় দিয়ে তিনি পার্কস্ট্রিটে ইংরেজির প্রাইভেট শিক্ষক ছিলেন। টিউশনি করেই তিনি দিব্যি সংসার চালাতেন, এবং এটাই স্থানীয় সবাই জানতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মাজেদ সেখানে আহমেদ আলির ছদ্মাবরণে নিজেকে ভারতীয় হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন! আহমেদ আলির নামে যাবতীয় সরকারী পরিচয় প্রমাণ পত্র ছিল তার কাছে। আধার কার্ড থেকে শুরু করে ভোটার আইডি কার্ড, রেশন কার্ড, এমনকি তার কাছে ছিল ভারতীয় পাসপোর্টও। সেই সাথে কোলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের BPL Household তালিকাতেও নাম তুলেছিলেন তিনি। BPL তালিকায় যাদের নাম থাকে, তারা সাধারণত দরিদ্র সীমার নিচে থাকা পরিবার, সেইসব পরিবার সরকারের কাছ থেকে পায় নানান আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা। ভয়ঙ্কর বিস্ময়ের বিষয় হল, যে খোদ ভারতীয় নাগরিকেরা জরুরি যেসব কাগজপত্র ও সুবিধা পেতে হিমশিম খান, তিনি সেসবই করেছেন অবলীলায়। আহমেদ আলি ওরফে ক্যাপ্টেন মাজেদের এসব সংগ্রহের বহর দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন, খুনি মাজেদ তথা আহমেদ আলির পাশে এক কিংবা একাধিক শক্ত ও প্রভাবশালী কোনো ভারতীয় ব্যক্তি কিংবা চক্র অবশ্যই ছিল। কেননা, শক্ত ও প্রভাবশালী ভারতীয় ব্যক্তি কিংবা চক্রের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এমন বিস্ময়কর সব অর্জন কখনই সম্ভব ছিল না।

ভারতীয় ভোটার তালিকায় খুনি মাজেদ তথা আহমেদ আলির নাম অন্তর্ভুক্তির তথ্য আজ সর্বজনবিদিত। তার নির্বাচনী এলাকা কোলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা। এই ভোটার তালিকাটিই পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে। ওই ভোটার তালিকাটি সর্বশেষ আপডেট হয়েছে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। বালিগঞ্জ বিধানসভার এই এলাকাটি অবশ্য লোকসভা নির্বাচনী এলাকা কোলকাতা দক্ষিনের অন্তর্ভুক্ত। বিধানসভার ১৬১ নম্বর আসন এলাকা হচ্ছে বালিগঞ্জ। বালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার ১০৩৪ নম্বর ভোটার সিরিয়ালে নাম রয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ তথা হালের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক আহমেদ আলির। তার বাড়ির নম্বর বেডফোর্ড লেনের ১২/এইচ/৩৪। বাবার নাম লেখা রয়েছে মো.আলি। বয়স ৭১। এই ভোটার তালিকা অনুযায়ী তার EPIC NO-FGH 2442895। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মাজেদ নিজের নাম পাল্টে আহমেদ আলি করলেও, পিতার নাম পাল্টাননি। তার পিতার নাম বাংলাদেশে মো.আলি এবং ভারতেও মো.আলি। ভোটার তালিকায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আহমেদ আলি কোন ভোটকেন্দ্রে ভোট দিবেন, তার ঠিকানাও দেওয়া রয়েছে; সেই ঠিকানা হচ্ছে, ৪৭/৩ রিপন স্ট্রিট, কোলকাতা-৫৫।

দুর্ভাগ্য ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক আহমেদ আলির। তার আর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া হলো না। তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ কোলকাতা থেকে নিখোঁজ হন। ৭ এপ্রিল ২০২০ ঢাকায় গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধুর খুনি ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন মাজেদ হিসেবে। তারপর ১১ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে সব নাটকের অবসান ঘটান। সেই সাথে চিরদিনের মতো হারিয়ে যান কোলকাতার পার্কস্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ইংরেজির মাস্টার মশাই আহমেদ আলি।

আহমেদ আলির ঘটনাই প্রমাণ করে যে বামপন্থী আমল হোক বা মমতাবিহীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্য্যকাল পশ্চিমবঙ্গ থেকে গেছে পশ্চিমবঙ্গেই। যত রাজ্যের চোর ডাকাত গুন্ডা বদমাইশের নিরুপদ্রব নিরাপদ আশ্রয় হল এই পশ্চিমবঙ্গ। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সঙ্কীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কারণে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জেল থেকে মুক্তি দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন রশিদ খানের মত টাডা আইনে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কে, সে রাজ্য যে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদীদের আতুঁড়ঘর হয়ে উঠবে তাতে কোন অস্বাভাবিকতা থাকতেই পারে না।
পশ্চিমবঙ্গে তথা দেশকে সন্ত্রাসবাদের থেকে মুক্ত করতে অবিলম্বে NRC চাই।

বিশ্বব্যাপী করোনা আবহের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য অশুভ সঙ্কেত। সাম্প্রতিককালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশকে ঢাল করে সাটটা ডন নামে কুখ্যাত রশিদ খানকে নব্বই দিনের প্যারোলে মুক্ত করেছে রাজ্য সরকার। আরও একবার বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের এই সাধের বাংলা।
এখন প্রশ্ন হল, যে কে এই রশিদ খান ? খুব বেশিদিনের কথা নয়।
গত নব্বইয়ের দশকে সিপিএম এর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে কুখ্যাত এই রশিদ খান অপরাধ জগতের বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিল। ১৯৯৩ সালের ১৭ মার্চ তারিখে কলকাতার বউবাজারে রশিদ খানের আড্ডায় ঘটে যাওয়া আরডিএক্স বিস্ফোরণে ৬৯ জন মানুষ নিহত হন। আহত হন অগণিত মানুষ। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল যে রশিদ খানের সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। হিন্দুনিধনের উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখা এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৎকালীন সিপিএম অপশাসনের দিকেই দিকনির্দেশ করে।২০০১ সালে টাডা কোর্ট রশিদ খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করে। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া চলাকালীন রশিদ খান তার উপর উঠে আসা সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এই কুখ্যাত দাগী অপরাধী রশিদ খান সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের খুব কাছের লোক ছিলেন।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল যে রশিদ খানের দন্ড ঘোষণার মাত্র ছয়বছরের মধ্যেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন সিপিএম সরকার তাকে মুক্তি দেওয়ার জোরদার প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ কমিশনার প্রশিন মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য সিনিয়র অফিসারদের তৎপরতায় এই প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর প্রত্যাশিত ভাবেই বঙ্গ রাজনীতির পট পরিবর্তন হয়। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আর সময় নষ্ট না করে বিষয়টি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত পছন্দের আমলা স্বরাষ্ট্র সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচজন যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্ত আসামির মুক্তির তালিকা প্রকাশ করেন যেখানে সবার প্রথম নামটি ছিল রশহীদ খানের। কিন্তু বাদ সাধল মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের একটি রুলিং অনুসারে টাডা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামির মুক্তির অনুমোদন করা রাজ্যের এক্তিয়ার ভুক্ত বিষয় নয়।
২০২০ সালে জেহাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের হাতে এল করোনা অস্ত্র। সুপ্রিম কোর্ট গত মার্চ মাসের শেষদিকে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যে আদেশে বলা হয় দেশের জেলগুলোকে মানুষের ভীড় কম করে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিটি রাজ্য সরকার একটি প্যানেল গড়বে। সেই প্যানেল বন্দিদের প্যারোলে মুক্তি দেবে। আর ব্যাস, রাজ্য সরকারের সোনায় সোহাগা। ঠিক যেন তারা এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। রাজ্য সরকারের প্যানেল প্যারোল ঘোষণা করল। স্বাভাবিক ভাবেই সেই তালিকার প্রথম নামটা ছিল রশিদ খানের। এবারের রশিদ খান কে বর্ণনা করা হল একজন শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী হিসেবে। প্রদর্শিত তোর তার নিজস্ব কিছু রঙ তুলির সৃষ্টি। দাগী অপরাধী রশিদ খানকে নব্বই দিনের প্যারোলে মঞ্জুর করে হয়েছে। আজ রশিদ খানের মত একজন ঘৃণ্য অপরাধী যার বাসস্থান হওয়া উচিত ছিল জেলখানার ভেতরে, সে আজ একজন উন্মুক্ত সুনাগরিকের মত নিজের বাড়িতে পৌঁছোল। পরিবার, প্রতিবেশীরা তাকে বরণ করে নিল ঠিক নায়কোচিত মর্যাদায়।
এই রশিদ খান যে আবার কোন ঘৃণ্য অপরাধ করবে না, তার কোন লিখিত গ্যারান্টি কি মুখ্যমন্ত্রী দিতে পারবেন?
আমাদের এই সোনার বাংলা টাকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর আদরের ভাইয়েরা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ধ্বংসের পথে নিয়ে চলেছেন শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার ঘৃণ্য তাগিদে।

অনেকগুলো প্রশ্ন মনে উঁকি দেয় –
আবার কি পশ্চিমবঙ্গ বারুদের স্তুপে পরিনত হবে? খাগড়াগড়ের থেকেও কোন বড়সড় বিস্ফোরন আবার অপেক্ষা করছে না তো আমাদের জন্য? এই রশিদ খান দের কিন্তু কোন বিশ্বাস নেই, বিশ্বাস হারিয়েছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীও।