করোনা ভাইরাস

Covid-19

সম্প্রতি একটি ঘটনা গোটা বিশ্বকে এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইদানিং কোরোনা নামক একটি বিশেষ ভাইরাসের করাল গ্রাসে উত্তাল গোটা বিশ্ব।এই ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হল Covid 19. এই ভাইরাসটির বহিঃ আবরণে প্রোটিনের অনেক spike (সুচের মতো) আছে। আজ পর্যন্ত ৭টি করোনা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে যা মানুষকে সংক্রামিত করতে পারে, তারমধ্যে Middle East respiratory syndrome- related corona virus (MERS-CoV), Severe acute respiratory syndrome corona virus (SARS-CoV) & Severe acute respiratory syndrome corona virus 2 (SARS-CoV-2) সবচেয়ে ক্ষতিকর। বর্তমানে যে corona virus disease 2019 (COVID-19) সেটি SARS-CoV-2 গ্রুপের। এই ভাইরাস জনিত নিউমোনিয়ার প্রথম প্রকোপ শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান প্রদেশে। এই ভাইরাস প্রধানতঃ নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিঃসৃত জলীয় বাষ্পের কণা ও সংস্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজন প্রেরিত হয়। নাক, মুখ ও চোখ দিয়ে এই ভাইরাস সুস্থ ব্যাক্তির শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে প্রবেশের পর কিছু সুনির্দিষ্ট কোষের সাথে সংযুক্ত হতে পারে ACE2 গ্রাহক এর মাধ্যমে। আক্রান্তের কোষের মধ্যে এটি নিজের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ribonucleic acid (RNA) কে ইনজেক্ট করে, সেই RNA এর মাধ্যমে এটি খুব দ্রুত বিভাজিত হয়ে নতুন ভাইরাস তৈরি করে এবং ঐ কোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে মুখ্যত জ্বর, গলা ব্যথা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, তীব্র শ্বাসকষ্ট এর মতো উপসর্গ গুলি দেখাযায়। তাছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও প্রভূত ক্ষতি হয়।

এই ভাইরাস এর মূল জিনোম RNA হওয়ার জন্য খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তিত (mutated) হয়ে বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। যার ফলে এখনো পর্যন্ত কোনো ওষুধ বা টিকা আবিষ্কৃত হতে পারেনি। নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করলেই এই ভাইরাস কে প্রতিরোধ করা সম্ভব। শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ভিটামিন C যুক্ত সুষম খাবার, ব্যায়াম ও বিশ্রাম খুব প্রয়োজনীয়। বাহ্যিক সুরক্ষার জন্য সবসময় পোশাক পরে থাকা, মাস্ক, চশমা, গ্লাভস ইত্যাদির ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি।তাছাড়া, সবসময় দূরত্ব বজায় রেখে থাকা (ঘরের বাইরে বা ভিতরে) ও বাড়ীর মধ্যে থাকার মতো বিকল্প কিছু নেই এই ভাইরাস কে প্রতিহত করার জন্য।

প্রচন্ড মারণ ক্ষমতার অধিকারী অভিশপ্ত এই ভাইরাসের আগ্রাসন থেকে বেঁচে নেই আমাদের দেশমাতৃকা ভারতবর্ষও। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দু’লাখ এবং মোট আক্রান্ত প্রায় সাতাশ লক্ষের কাছাকাছি। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রীতিমত উদ্বিগ্ন। নিরপরাধ নিরীহ মানুষের এই মৃত্যু মিছিল সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক যে আজ অবধি বিশ্বের কোন দেশ এই ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আবিষ্কারে সমর্থ হয়নি, অতএব অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া আর অন্য কোন গতি নেই। বারেবারে প্রমাণিত যে প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার কাছে মানুষ আজও নতজানু। আমেরিকা, ইতালি, স্পেন জার্মানির মত দেশ আজ চোখের সামনে ছারখার হয়ে যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে কাঁদছেন, আত্মসমর্পণ করছেন অথচ গোটা বিশ্ব অসহায়, অপারগ। প্রকৃতির নির্মম রোষানলের শিকার আমাদের ভারতবর্ষও, যেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় চল্লিশ হাজার জন আক্রান্ত এবং প্রায় তেরোশ জন মৃত। কেউ জানেনা এর শেষ কোথায় কিন্তু একথা হলফ করে বলে দেওয়া যায় যে প্রকৃতির নির্মমতার কাছে বিজ্ঞান আজও পদানত। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, রাজ পরিবারে থাবা বসানোর পাশাপাশি, এই প্রতিবেদন লেখা অবধি আক্রান্ত হয়েছেন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। WHO এই মারণ রোগকে মহামারী বলে আখ্যা দিয়েছে। পৃথিবী জুড়ে দেখা দিয়েছে এক সঙ্কটকালীন অবস্থা। সব দেশ বন্ধ করেছে আন্তর্জাতিক বিমান। দেশে দেশে চলছে এক অভূতপূর্ব লকডাউন যা ভাষান্তরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামিল। দিকে দিকে এক গভীর শূন্যতা,হাহাকার। কিন্তু তা বলে হারার আগে হেরে বসে থাকলে তো চলবে না। শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজীর সবল নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বশক্তি দিয়ে এই মারণ রোগের মোকাবিলায় নেমেছে। পিছিয়ে নেই রাজ্য সরকারও। যদিও এই ছোঁয়াচে রোগের মধ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সদলবলে রাস্তায় নেমে পড়া, ডেকে আনতে পারে সাংঘাতিক বিপর্যয়। রাজ্যবাসীর কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ যে, সরকারের যাবতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি আপনারা নিজেরাও এই অভিশপ্ত কোরোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় যথাসামর্থ্য সহায়তা করুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজেকে স্বেচ্ছা গৃহবন্দী রাখুন ও অন্যান্যদের একই পরামর্শ দিন। প্রতি ঘন্টার ব্যবধানে অল্প অল্প করে গরম জল পান করুন, স্যানিটেশন পদ্ধতিতে হাত জীবাণুমুক্ত রাখুন।
মনে রাখবেন যে আমাদের এই পুণ্যভূমি অনেক অনেক ৠষিমুনিদের পদরেনু রঞ্জিত,এই ভূমি দেবতাদের ভূমি। আমরা চাইলে আবারও বিশ্বকে রোগ মুক্তির পথ দেখাতে পারি, যেমনটা আমরা ইতিপূর্বে অনেকবার করে দেখিয়েছি। চাই শুধু সঙ্কল্প, দৃঢ়তা ও একাগ্রতা। মোদীজীর সবল নেতৃত্বে ভারত আবার বিশ্বগুরুর আসন গ্রহণ করবে এ বিশ্বাস আমাদের অটল চিরন্তন।