আমফান

"আমফান ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ"


বিশেষ দ্রষ্টব্য: যেহেতু আমরা এখনও পর্য্যন্ত রাজ্যের বিরোধী আসনে অবস্থান করি, সেহেতু আমরা সরাসরি কোন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস প্রদানে অপারগ। কিন্তু মানুষের সাহায্যার্থে আমরা আপনাদের অভিযোগ বা ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দায়িত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করব। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব যাতে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন।

করোনা আতঙ্কের আবহে আমফান যেন এক গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া।

১৯৯৯-এ ওড়িশায় আছড়ে পরা ‘সুপার সাইক্লোন’-র মতো বা তার থেকেও ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় “আমফান”। চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।এ রাজ্যে আছড়ে পরার পর আমফানের দাপটে যে ঝোড়ো হাওয়া বইবে, তার গতিবেগও হবে অত্যন্ত বেশী, প্রায় ঘন্টায় ২৫০-২৬০ কিমি।


শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী হয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। এ রাজ্যের দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী কোনও এলাকায় আমফান আছড়ে পড়তে পারে আজ বিকেলের মধ্যে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমফানের শক্তি কয়েকগুণ বাড়বে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমফান ‘সুপার সাইক্লোন স্টর্ম’-র চেহারা নেবে।

আমফানের ঝাপটায় সব থেকে বেশি ক্ষতক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলবর্তী জায়গাগুলোতে,যেমন দিঘা, মন্দারমণি, নামখানা সুন্দরবনের সমুদ্র সৈকত এলাকায়। কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘন্টায় ১৩০ কিমি। এছাড়াও দুই ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরের বিভিন্ন অঞ্চলেও ঝড়ের দাপট চলবে। হাওড়া ও হুগলী জেলাতেও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে প্রবল বেগে ঝোড়ো হওয়া বইবে।উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও শেষের দিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে কাঁচা বাড়ি ভেঙে পরতে পারে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে,তার আগাম সতর্কতা হিসেবে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সমস্ত রকমের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, রাস্তাঘাট বন্ধ থাকবে, মোবাইল নেটওয়ার্ক যেটি পাওয়া যাবে সেখান থেকেই সব জায়গায় পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।আপদকালীন পরিস্তিতি মোকাবিলা করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে অতিরিক্ত উৎপাদন করে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার জন্য চারটি 300 KV-র পাওয়ার সাব স্টেশন তৈরী রাখা হয়েছে।এনডিআরএফ-র ১৯টি দল (দুটি reserve battelion, air support সহকারে শিলিগুড়ি এবং নদিয়ার হরিনঘাটায় আছে)গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।