মেদিনীপুর

একদা পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ জেলা ছিল মেদিনীপুর, যাকে বলা হত স্বাধীনতা সংগ্রামের আঁতুড়ঘর, শহীদ ক্ষুদিরামের আত্ম বলিদান এ ধন্য এই জেলার আরো এক বীরপুত্র পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি না থাকলে বাঙালি তার ভাষার বলিষ্ঠ তাই অর্জন করতে পারতো না. মেদিনীপুরের মাটি তার পূণ্য অর্জন করেছে রানী শিরোমণি র বীরত্বে, যা আজ মানুষ প্রায় ভুলতেই বসেছে, সিপাহী বিদ্রোহ, সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, চুয়ার আন্দোলনে মেদিনীপুরের ভূমিকা অনস্বীকার্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের পূর্ব মেদিনীপুরের বৌদ্ধ, মুসলমান, হিন্দু জনজাতির বসবাস বহুদিন ধরে, বহু ইতিহাসিক এবং ধর্মীয় ঘটনার সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই জেলা।
পশ্চিম দিকে ছোটনাগপুর মালভূমি, গিয়ে মেশে জলাভূমি এবং জঙ্গলে। মেদিনীপুরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা কংসাবতী নদীর সৌন্দর্য অপরূপ। বিশাল আকার এই জেলাকে বিভক্ত করে ১লা জানুয়ারি 2002 তে গঠিত হয় পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর। আর ৪ ঠা এপ্রিল 2017 পশ্চিম মেদিনীপুর খন্ডিত করে গঠিত হয় ঝাড়গ্রাম জেলা।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তে অবস্থিত, ভারতের অন্যান্য জেলার তুলনায়, সবথেকে বেশি সংখ্যক গ্রাম। 2011 সেন্সাস উল্লেখ করেছে এখানে 8694 টি গ্রাম রয়েছে। তৎসত্ত্বেও 2006 সালের কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত দপ্তর এই জেলাকে 250 টি সবথেকে বেশি পিছিয়ে পড়া জেলার একটি বলে ধরে নিয়েছে।
মেদিনীপুর শহর জেলার সদরদপ্তর হলেও এখানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য শহর আছে। যেমন খড়গপুর, দাঁতন, পিংলা, সবং, মোহনপুর, কেশিয়াড়ি, ডেবরা ইত্যাদি। হিন্দু প্রধান: (৮৬.৫২) এই জেলাতে মুসলমান (১০.৪৯) ও অন্যান্য ধর্মালম্বী মানুষেরা সম্প্রতি সাথে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করেন।
মেদিনীপুর জেলা তে বহু তপশিলি উপ জাতিভুক্ত মানুষের বাস, তাদের মধ্যে আছে সাঁওতাল, কোলে, কুড়মি, মুন্ডা, ভূমিজ, লোধা, লোধা-শবর, ঘেরিয়া, শবর প্রভৃতি। এদের মধ্যে লোধা, লোধা-শবর, ঘেরিয়া – শবরদের একমাত্র দেশের এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। এর ফলে এই জেলার এই অন্যান্য দিক উন্মোচিত হয়।
পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র অঞ্চল হিসাবে ঘোষিত হলেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে বেশকিছু ভালো বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় আছে। মেদনীপুর মহাবিদ্যালয় কে একসময় কলকাতার প্রেসিডেন্সি মহাবিদ্যালয় সাথে তুলনা করা হতো। ১৯৮১ সালে মেদিনীপুর শহরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হয়েছিল। তাই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য কে বহন করে চলেছে।
সাংস্কৃতিক দিক থেকেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা উৎকর্ষের চিহ্ন রাখে। বিভিন্ন গ্রামীণ সঙ্গীত এবং নৃত্য, বিশেষ করে অন্তেবাসী দের উৎসবের নিত্য গীত, নাটক যেমন ঝুমুর, এবং টুসু, ভাদু পর্বের গান শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আসেন। মালভূমি,, একে বেঁকে যাওয়া নদী সংলগ্ন গতিময় জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা তার পরব, উৎসব, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কে পর্যটকদের কাছে মোহময় করে তোলে। এমন বৈচিত্র্যময় বসুন্ধরার সন্তান হলে নিজেকে ধন্য মনে করতে হয়।