পুতুলখেলা

দেবারতি মিত্র – 23.07.2020

তখন আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলামনা। গান ছিল নেশা ও পেশা। আমার লেখালেখিও আমার আপন আবেগের ও একান্ত অনুভূতির। সময় সুযোগ পেলেই কিছু না কিছু সামাজিক কাজ নিজের উদ‍্যোগে করতাম।
ক্রমশ বুঝতে পারছিলাম আমার খুব পরিচিত সঙ্গীত জগতেও রাজনৈতিক শত্রুতা ও অনেক চক্রান্ত চলছে। অনেক শিল্পী কিছু না করেও হঠাৎ সংস্কৃতি জগতে আলোকিত ও মধ‍্যমণি,আর যারা সত‍্যিকারের কাজ করেও দলদাস হতে পারেনি তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে.., অভিজ্ঞতা হচ্ছিল।না আমি পারিনি..,শাসকপক্ষের কিছু মানুষের উদ্ভট ধারণা ও কল্পনার সঙ্গী হতে। কিছু মহিলার কদর্যরূপের মহিমায় অনেক পুরুষই ভাবতে থাকেন নারী মাত্রই ভোগ‍্য। কিছু স্বার্থের প্রেক্ষিতে নারীদের কাছে পাওয়া যায় পুরুষের মনে এইরূপ ধারণা আমরা নারীরাই সৃষ্টি করি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে..আর কিছু মেয়েরা হয় “বেচারা” type..তারা বোকার মত হয়ে ধোঁকা খায়,নয় গোপন অত‍্যাচারের শিকার হয়। তাই অতি বিবেকবান সর্বগুণান্বিত পুরুষও তার অন্তরের অন্তঃস্হলে পুষে রাখে..যতই সর্বজ্ঞানী সর্বগুনী হও না কেন.. আসলে তুমি “একটি মেয়ে”.. একটি “কোমল শরীর” বিশেষ করে শাসকদলের সেইসব উচ্চপদস্হ পুরুষ তো সব মেয়েকেই #খেলনা ভেবে থাকে। নারী মাত্রই কেবল একটি ভোগ‍্য শরীর, তাই তোমাকে কিছু পাইয়ে দেবার বিনিময়ে অতি সহজে তোমার গোটা শরীরটাকে চাইবার নিয়মটা প্রথাগত, গুপ্ত অথচ মুক্ত এক নিয়ম। শহরে চলে সাজানো গোছানো নারী-সম্ভোগ, অনেকটাই বিনিময় প্রথা। অনেক ওপরে, অনেক অনেক ওপরে ওঠার প্রতিযোগিতায় নিজেকে বাজী রাখে নারী পুরুষের স্বার্থে। নারীর ভাল বা মন্দ তখন সবটাই নির্ভর করে উলটোদিকের পুরুষটির ওপর। ভাগ‍্য ভাল তো ভাল।আর ভাগ‍্য ভাল না তো মন্দই মন্দ। গ্রামেগঞ্জেও এই নিয়ম প্রচলিত। জমির মালিক, আড়ৎদার, আর এখন সবচেয়ে বেশি অত‍্যাচারকারী শাসকগোষ্ঠীর প্রধান। শাসকগোষ্ঠীর সাধারণ সদস‍্যও দলের হয়ে খাটে। তাই দাবীদাওয়া না মানলে চলে..?? ওদের আবার দলের পুষ্টিকরণের কাজেও লাগে। কখনও কাট মানি তোলা, কখনও বোমা বাঁধা কখনো ভোটের সময় শাসক দলকে ভোট পাইয়ে দিতে যথেচ্ছাচার করা..ইত‍্যাদি ইত্যাদি।
এর মাঝে কেউ কোনও মহিলাকে “ধর্ষণ করা” ” খুন করা ” কোনও ভুলই না। “অপরাধ” শব্দটা এক্ষেত্রে অনেক দূরে। খুব কষ্ট হয় যখন দেখি, অনুভব করি.. একজন “নারীশাসিত রাজ‍্যে”ও আমরা নারীরাই কি ভীষণ অসহায়।রাজ‍্যের শাসনকত্রী যদি ধর্ষণকে “দুষ্টুমি ” আখ‍্যা দেন.. তাহলে তাঁর নেতা মন্ত্রীর দোষ কোথায় কোনো স্বার্থের বিনিময়ে “নারী শরীর” নামক “খেলনা” নিয়ে খেলতে..?? তাই “দুষ্টুরা” পার্ক স্ট্রীটে “কাদের খান ও তার বন্ধুরা”খেলার পরে “ভাঙ্গাপুতুল” ফেলে গেছিল। “চোপড়ার পুতুল খেলাটা” তো একটু বেশি দুষ্টুমি আর “বাগনানের পুতুলটা” নাকি আগেভাগেই ভাঙ্গা ছিল.. তাই আবার না হয় ভাঙ্গার খেলা করতই দুষ্টুরা। আজ দেখলাম জমির আলপথে বেঁধে রাখা সারারাত ধরে অত‍্যাচারিতা আরও এক ভাঙ্গা পুতুলকে। ধর্ষিতাকে। বেঁচে আছে দেখে শান্তি লাগল, এই পুতুলের ভাগ‍্যটাই যা ভেঙ্গেছে।
মাঝেমাঝে মনে হয় খুব চিৎকার করি…,সবচেয়ে আগে যে মা পুরুষ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তাকে জিজ্ঞাসা করি.. হে আদিমাতা তুমি কি নিজেকে দুর্বল হীন পুরুষের প্রতি উৎসর্গকৃত ভাবতে ভাবতে পুত্রের জন্ম দিয়েছিলে?? না হলে এমন কান্ড যুগ যুগ ধরে চলছে কি করে????