।। ওঁ শ্রী দূর্গা মাতায় নমঃ।।

।। ওঁ শ্রী দূর্গা মাতায় নমঃ।।

আমার প্রিয় কার্যকর্তা বন্ধুরা,
ভারতীয় জনতা পার্টি,
পশ্চিমবঙ্গ

প্রিয় সাথী,

আজ উমা মায়ের কৈলাশে ফিৱে যাওয়ার পূণ্যলগ্নে বয়োজ্যেষ্ঠদের জানাই প্রণাম এবং অন্যদের জন্য আন্তরিক শুভকামনা এবং অভিনন্দন | কালের নিয়মে প্রতি বছর মা পিত্রালয়ে আসেন, আবার নির্দিষ্ট নির্ঘন্ট মেনে চলেও যান। মা আমাদের জন্য নিয়ে আসেন শুভশক্তি ও তাঁর আশীর্বাদ দিয়ে যান , যা আমাদের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা যোগায় |

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে সংঘাত ও সফলতার সুপরিচিত যাত্রাপথে বেশ কয়েকটা বছর কেটে গেল। আজ বিজয়া দশমীর পুণ্য দিনে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু অব্যক্ত মনের কথা তুলে ধরা খুব প্রাসঙ্গিক মনে হল। বিগত কয়েক বছর যাবৎ আপনারাই আমার ভাই , বোন, বন্ধু— পরিবার।

বন্ধু ! আমার আজও মনে আছে সেদিনের কথা, যেদিন  কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমার কাঁধে রাজ্য সভাপতির গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং আপনারা পরম আন্তরিকতার সাথে আমাকে সসম্মানে বরণ করে নিয়েছিলেন। আপ্লুত হয়েছিলাম সেদিন, প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সাফল্য অর্জন করে আপনাদের সম্মানিত করব। ঠিক সেদিন থেকেই আমি নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব নির্বাহ করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে গিয়েছি। অতি প্রয়োজন ছাড়া একদন্ড অবসর নেইনি। মহান সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের বাণী “উত্তিষ্ঠত , জাগ্রত, প্রাপ্য বরান নিবোধত”, কে পাথেয় করে, দলের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী হিসেবে, ঠিক আপনাদের মত আমিও আমার ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধার চেয়েও দলের প্রয়োজনীয়তা কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

সাথী! একমাত্র আপনাদের ভালবাসা আর কর্তব্যনিষ্ঠার   বলে বলীয়ান হয়ে, ঈশ্বরের আশীর্বাদকে সঙ্গী করে আজ আমরা আমাদের দলকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে পেরেছি। আজ যখন আমি পেছন ফিরে দেখি স্মৃতির সরণি বেয়ে একাধিক আনন্দঘন ঘটনা স্মৃতিপটে  প্রতিফলিত হয়, যা কিনা সম্পূর্ণভাবেই আপনাদের আন্তরিকতা ও একাগ্রতার ফসল বলে আমি কায়মনোবাক্যে বিশ্বাস করি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে  ১০% জনগণের আশীর্বাদপুষ্ট আমাদের দল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪০% এর উপর মানুষের আশীর্বাদে ধন্য হয়েছে, যা আপনাদের “হার না মানা” জেদ তথা অধ্যাবসায়ের ফলেই সম্ভবপর হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৮ জন সাংসদ কে জিতিয়ে আনা, আপনাদের ত্যাগ তিতিক্ষা দায়বদ্ধতার স্বপক্ষেই এক প্রামাণ্য দলিল।

২০১৪ সালে সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গও যখন মোদী ম্যানিয়ায় আক্রান্ত ছিল তখন আমরা মাত্র ২ টি লোকসভা আসন জয় করতে সমর্থ হয়েছিলাম, যেখানে শতকরা ভোটার হার ছিল মাত্র ১৭%। 2016 সালে আমার কৰ্মলগ্ন শুরু হয় রাজ্যের তিন প্রান্তের মাত্র তিনটি বিধায়ক দিয়ে । সেখানেই আমরা থেমে থাকি নি | আমাদের বিজয়রথ ক্রমাগত শাসকের দমন-পীড়ন নীতিকে উপেক্ষা করে , পুলিশি নির্যাতন , কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা , খুন – সন্ত্রাস সত্ত্বেও এগিয়ে চলেছে | একটা সময় ছিল যখন বুথ ভিত্তিক কার্যকর্তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। আজ প্রায় সব বুথেই একাধিক কর্মী সক্রিয়, কোন কোন বুথে তো কর্মী সংখ্যা শতাধিক অতিক্রান্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের অকথ্য অত্যাচার, খুন, রক্তাক্ত রাজনীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোট গণনায় কারচুপি সত্ত্বেও আমরা ৬০০০ এর অধিক আসনে জয়লাভ করি এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় ৭০০ জন পঞ্চায়েত, সমিতি এবং জেলা পরিষদ সদস্য বিজেপি তে যোগদান করে, যেখানে অন্যান্য বিরোধী দলেরা ধরাশায়ী এবং প্রায় অবলুপ্তির পথে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০১৯ এর ১৮ টি সাংসদ কে জিতিয়ে আনা আপনাদের কঠোর ও নীতিনিষ্ঠ পরিশ্রমকেই প্রতিফলিত করে । ২০১৯ এর নির্বাচনে ১২২ টি বিধানসভা আসনে সংশয়াতীত প্রাধান্য উল্লেখ করা যেতে পারে। আজ আমরা তিন থেকে শুরু করে ১৬ জন প্রথিতযশা  বিধায়ক বিজেপির ঝুলিতে পুরতে পেরেছি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে, কারণ “পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন , শাসকের ক্রমাগত বঞ্চনা-দূর্নীতি-অপশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ” |
“সোনার বাংলা” গড়তে আমরা রাজ্যবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজ্য সভাপতি হিসেবে আপনাদের কাছে আবেদন যে, বাংলার স্বার্থে, বাঙালীর স্বার্থে আবারও একবার নিজেদের উজাড় করে দিয়ে আমাদের প্রমাণ করে দিতে হবে যে সদিচ্ছা থাকলে যে কোন অসাধ্য সাধন আমাদের কাছে অতি ক্ষুদ্র বিষয়। আমাদের পারদর্শিতা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি তা সে লোকসভা ভোটই হোক অথবা পঞ্চায়েত। লক্ষ্য এবার একুশের বিধানসভা,  আমাদের সকলকে একজোট হয়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনতেই হবে। সময় এসেছে যখন আমাদের এক সূত্রে গ্রথিত হয়ে সমবেত কণ্ঠে সঙ্কল্প গ্রহণ করে বলতে হবে যে “করব মোরা লড়ব মোরা সোনার বাংলা গড়ব মোরা।” 

ভালো থাকবেন সকলে। করোনার করাল গ্রাস থেকে এখনও আমরা মুক্ত নই, তাই নিজেরা সাবধানতা অবলম্বন করবেন, অপরকেও সাবধান করবেন।

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা সহ 
দিলীপ ঘোষ