রাজনীতিতে শিল্পীর প্রাসঙ্গিকতা
দেবারতি মিত্র

আমি যেহেতু একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী তাই আমার ব‍্যক্তিগত ও আদর্শগত রাজনৈতিক একটি দিকে থাকা স্বাভাবিক। অনেকেই (যাঁদের আমি উচিতবাবু নামে চিহ্নিত করি)একটা অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চান..”শিল্পীর কোনো রাজনৈতিক দল করা উচিত না। শিল্পী মানুষের জীবনে কোনো রাজনীতির দলীয় রং লাগানো অনুচিত।” এই অকাট্য যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে একটা বক্তব্য আছে আমার। শিল্পীরা সমাজে যে বার্তা দিতে পারেন তা সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যায় তাঁর শিল্পের মাধ্যম‍ে। শিল্পীরা যদি বলেন কোনো রাজনৈতিক অভিমত জানানো প্রক‍াশ‍্যে তাাঁদের অনুচিত..,তাহলে সেইসকল শিল্পীরা নিতান্তই সুবিধাবাদী,ধূর্ত ও স্বার্থপর শ্রেণির।শাসক যে দল সেই দলের পক্ষে এরা কানে তুলো পিঠে কুলো লাগিয়ে আনুগত্য টিকিয়ে রাখে। আবার বিরোধী দলকেও ক্ষ‍্যাপায়না। কারণ যদি সব বদল হয়..,বিরোধীরা একদিন সরকার গড়ে তাহলে নতুন শাসক দলটির থেকেও সুযোগ সুবিধা নেবার সুযোগ থাকে। এঁরা শুধু নিজের সুবিধা ও স্বার্থ যেখানে ফলপ্রসূ হয় সেখানেই শ‍্যাওলার মত ভেসে যায়।ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুলে থাকে শাসকের সব ভুল।কেউ কেউ সব বুঝেও শাসকের স্তাবকতা করে যায় শুধুমাত্র সুযোগ সুবিধা সন্মান হারানোর ভয়ে।এঁরা মনে রাখেননা দেশ ও দশের প্রেরণায় ও গ্রাহ‍্যতায়ই শিল্পীর পরিচিতি ও খ‍্যাতি মেলে।আর সেই দেশ ও দেশবাসীর জন‍্য কোন্ রাজনৈতিক দলটি কল‍্যাণকর তা বুঝে সেই বার্তাগুলি মানুষের মধ‍্যে ছড়িয়ে দেওয়া শিল্পীর একটি মানবিক ও সামাজিক কর্তব্য। আর শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিত নয় যাঁরা বলেন তাঁদের উদ্দ‍েশ‍্যে আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি….,আমরা যাঁরা শিল্পী তাঁরা কিন্তু একজন হাত পা চক্ষু কর্ণ ও বুদ্ধি বিশিষ্ট আবেগ অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ।দেশের নাগরিক।আয়কর দিতে হয় আমাদেরও।বাজারে জিনিসের দাম বাড়লে আমরাও সমস‍্যাক্লিষ্ট হই। দেশে খরা বন‍্যা মহামারি কিংবা শত্রুর আক্রমণ আমাদেরও ভাবিত করে, কষ্ট দেয়।আমাদেরও দেশভক্তি থাকাটা স্বাভাবিক বরং না থাকাটা মনুষ‍্যত্ব ও দেশপ্রেমের পরিপন্থী। ওই আগে যে শিল্পীদের কথা বললাম ঠিক তাঁদেরই মত।
তাই শিল্পীদের অতি অবশ্যই দেশের ও দশের জন‍্য ভাবা ও কিছু করা বাঞ্চনীয়।কোনও রাজনৈতিক আদর্শ ও পক্ষ রাখা একটি বিশেষ কর্তব‍্য।কেবলমাত্র আমি শান্তিতে গান গাইব,আমি ছবি আঁকব নৃত্য করব আর অজস্র অর্থ উপার্জন করব,কখনই অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু না বলে শাসকদলের থেকে “বঙ্গবিভীষণ ” ধরণের সম্মান নিয়ে যাব..,..এই স্হূল চিন্তা যাঁর তিনি হয়তো শিল্পী কিন্ত একজন সামাজিক মুখ নন। তিনি নিজের শিল্পকলাকে নিয়ে শুধু উন্মত্ত থাকেন..মানুষের গান গাননা,মানুষের ছবি আঁকেননা,মানুষের কথা বলেলনা।