‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’
প্রিয় পাঠক, শুরুতেই চমকে যাবেন না।

বামপন্থী কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের একটি কবিতার শিরোনাম কী করে আমার লেখার শীর্ষক হয়, এই ভেবে চমকে যাবেন না। কোচবিহারের দুলাল ভৌমিক, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিশু টুডু, দাড়িভিট গ্রামের ভাষা শহীদ রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মন, পুরুলিয়ার আঠারো বছরের কিশোর ত্রিলোচন মাহাত এবং হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়… সংখ্যাটা গুনে শেষ করা যাবে না।

‘নিও কমিউনিজমের জননী’ আমাদের মাননীয়ার নিও হার্মাদ বাহিনীর হাতে বিজেপি কর্মীদের এই মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। গ্রামকে গ্রাম বিজেপি কর্মীদের ফসল কেটে নেওয়া হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি, হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তরুণ কর্মীদের। পুলিশের একাংশ এবং এই নিও-হার্মাদদের যৌথ বাহিনী যে হত্যালীলার চিত্রনাট্য রচনা করে চলেছেন বৈষ্ণবনগর থেকে বসিরহাট, ইতিহাসের পাতায় পাতায় সেই মর্মন্তুদ কাহিনি লেখা থাকছে অশ্রু এবং রক্তের অক্ষরে। কথায় কথায় যারা ফ্যাসিবাদের কথা আওড়ান সেই কমিউনিস্ট এবং তৃণমূলের ফেসবুক বাহিনীর কুমীরের কান্না আজ কোথায়?

যে উর্দিধারী পুলিশ আজ তৃণমূলের ফ্রন্টলাইন ক্যাডার, আমরা দেখেছি তারাও টেবিলের নীচে ফাইল মাথায় নিজেদের লুকোচ্ছেন তৃণমূল গুণ্ডাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য। অথচ এই কাপুরুষের দল সারা পশ্চিমবাংলা জুড়ে ঘাসফুলের ছত্রছায়ায় যে বিজেপি-নিধন যজ্ঞে নেমেছেন তাদেরকেও কিন্তু সময় ঠিক মনে রাখছে। ইতিহাসের পাতায় পাতায় টুকে রাখা হচ্ছে আপনাদের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। নুরেমবার্গ ট্রায়ালের কথা ভুলে যাবেন না কেউ। আজকের নিও-হার্মাদ এবং উর্দিধারী ক্যাডার-এর গেস্টাপো বাহিনী, ভুলে যাবেন না, আমরা সব অপরাধের শুরু থেকে শেষ টুকে রাখছি। হাজার হাজার সন্তানহারা মা, স্বামীহারা বিধবা, যাঁদের চোখে এখন আর জল নেই, রয়েছে প্রতিশোধের আগুন, সেই মা-বোনেরা একদিন সাক্ষী দেবে আপনাদের বিরুদ্ধে। যে নারকীয় নিধন যজ্ঞে খাকি ও খাদি মিলিয়ে ফেলেছেন আপনারা, সেই আগুনে এখন নিজেদের রুটি সেঁকে নিলেও একদিন হাত পুড়ে যেতে পারে সেই ‘চিরপ্রনম্য অগ্নি’-তেই। সেইদিন নিজের যূপকাষ্ঠ নিজেই বইতে হবে না তো? সময় এবং আইন কাউকে ক্ষমা করে না।

পাড়ার যে মাস্তান এখন হাতে সোনার বেসলেট পরে বিজেপি কর্মীদের অপমান করছেন, যে থানার ওসি রামনবমীতে মিছিল করার অপরাধে গাঁজা কেস দিয়ে তুলে নিচ্ছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে আর যে সিভিক ভলান্টিয়ার নির্মমভাবে রায়গঞ্জ থানায় পিটিয়ে মারছেন অনুপ রায়কে, আমরা তাদের মনে রাখছি।

বিষ্ণুপুরের মহিলা বিজেপি কর্মীর মাথায় গুলি করা হয় যখন তখন কোথায় সেই ফেসবুক বিপ্লবীরা? কোথায় আপনাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী মায়াকান্না। আসলে দেওয়ালের লিখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তাই মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই কেশরিয়া উত্থানের বিরুদ্ধে। মাননীয়া, আপনার একহাতে পুলিশের দুর্নীতিপরায়ণ একটি অংশ অন্যহাতে সীমান্তের ওপার থেকে আসা জল্লাদ, আপনার এই যৌথবাহিনী এখন গোটা রাজ্যের ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন মনস্টার। এদের হাত থেকে রাজ্যবাসী এখন মুক্তি চাইছে। আপনার হাত থেকেও।

আর এই রাজ্যের উচ্ছিষ্টভোগী বালিতে মুখ গুঁজে রাখা উটপাখির মতো বুদ্ধিজীবিরা , একদিন যারা ছত্রধরের সঙ্গে মিটিং করেছেন, একদিন যারা তসলিমাকে এই রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় নির্বিকল্প সমাধি নিয়েছিলেন, আজকের এই মৃত্যুমিছিল আপনাদের ব্যথিত করে না? শুনুন, ‘অ্যাপলিটিকাল ইন্টেলেকচুয়াল’ বলে কিছু হয় না। তাই আজ আপনাদের পঙ্‌ক্তিই আপনাদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছি,
‘One day
The apolitical
Intellectuals
Of my country
Will be interrogated by the humblest
Of our people.’’

পিনোশে, চাউসেস্কুর জমানাও একদিন শেষ হয়েছে। পশ্চিমবাংলার এই তমসাচ্ছন্ন কালখণ্ডও একদিন আলোর মুখ দেখবে। খুব তাড়াতাড়ি সেই সুদিন আসছে।

জয়হিন্দ।
ভারত মাতার জয়।।